শনিবার । ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৭ই মাঘ, ১৪৩২

প্রবাসীর অর্থায়নে রূপসায় মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলল গৃহহীন ফাতেমার

নিজস্ব প্রতিবেদক

রূপসার সন্তান ইউরোপ প্রবাসী রিয়াদ খানের অর্থায়নে হতদরিদ্র, অসহায় গৃহহীন ফাতেমা বেগমের মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলেছে। উপজেলার ইলাইপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলিথিনে মোড়া জরাজীর্ন ঘরে অর্ধহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন। টিন শেডের নতুন ঘর পেয়ে মহা খুশি ফাতেমা বেগম।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের গুপিয়ার খালের পাড়ে স্বামী সন্তানহীন একাকি জীবন-যাপন করতো ষাটোর্ধ ফাতেমা বেগম। ওই স্থানে তার ২ কাঠা জমি থাকলেও ছিল না মাথা গোঁজার ঠাঁই। পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ি তৈরি করে থাকতেন তিনি। একটু বৃষ্টি হলে থাকার অনুপযোগি হয়ে পড়তো ওই ঝুপড়ি ঘরটি। শারিরিক অসুস্থার কারণে উপর্জনের জন্য সক্ষমতা ছিল না তার। মানুষের বাড়ি বাড়ি হাত পেতে জিবিকা নির্বাহ করতেন। কয়েক মাস আগে ফাতেমা বেগমের মানবতার জীবন যাপনের একটি ভিডিও তার প্রতিবেশি আলী ওমর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন। ওই পোস্ট রূপসা প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহরিয়ার হোসেন মানিকের দৃষ্টিগোচর হয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আলী ওমরের সাথে পরামর্শ করে তৎক্ষনাৎ তিনি সমাজের বিভিন্ন বিত্তশালীদের সাথে যোগাযোগ করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ বোরহান উদ্দিন বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে বিবেচনায় নেন। তিনি সাংবাদিক মানিকের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রিকতার সাথে কথা বলেন। প্রাথমিকভাবে কিছু শুকনো খাবার দেওয়া হয় অসহায় ফাতেমা বেগমকে। বয়স্ক ভাতার জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদারের সাথে যোগাযোগ করে অসহায় ওই নারীর পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন সাংবাদিক মানিক। ফাতেমার নামটি যথাসময়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে সমাজসেবা কর্মকর্তা তাকে নিশ্চিত করেন।

এরই মধ্যে সোস্যাল মিডিয়ার মানবিক ওই পোস্ট ইলাইপুর গ্রামের প্রয়াত ইউপি সদস্য আজমল হোসেন খানের ছোট ছেলে ইউরোপ প্রবাসী রিয়াদ খানের নজরে আসে। তিনি আলী ওমর এবং সাংবাদিক মানিকের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাতেমা বেগমের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হয় টিনসেড ঘর নির্মাণ কাজ। ঘরটি নির্মাণে রিয়াদ খান প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যায় করেন বলে জানা গেছে। ফাতেমা বেগমের মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও ঘরে নেই ঘুমানোর জন্য একটি খাট। শীতের রাতে মাটিতে বস্তা বিছিয়ে ঘুমান তিনি। এছাড়া নেই রান্নার জন্য ঘর এবং বাথরুম।

ফাতেমা বেগম বলেন, “আমি মহান আল্লাহর দরবারে নামাজান্তে মোনাজাত করে বলি বাংলার প্রতিটি পরিবারের যেন একজন করে রিয়াদের জন্ম হয়। আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।” রিয়াদ খান বলেন, “আপনারা আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন দূর প্রবাসে থেকেও এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি। উনার যে বাকি সমস্যাগুলো রয়েছে এ বিষয়ে যদি কেউ এগিয়ে আসে আলহামদুলিল্লাহ। তা-না হলে আমি করে দিব ইনশাআল্লাহ।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন